চট্টগ্রাম

বাঁশখালীতে হাতির মৃত্যুতে ক্ষতি ৪০ লাখ, ২০ জনের বিরুদ্ধে মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক :

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় সংরক্ষিত বনাঞ্চলে একটি হাতিকে নির্মমভাবে হত্যার অভিযোগে মামলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১০ এপ্রিল) রাতে বাঁশখালী উপজেলার চেচুরিয়া বিট কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন। হাতিটিকে হত্যা করে আনুমানিক ৪০ লাখ টাকা ক্ষতিসাধন করা হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।

বাঁশখালী থানায় দায়ের করা মামলায় দুইজনের নাম উল্লেখসহ ১৫ থেকে ১৮ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।

দুই আসামি হলো- বাঁশখালী উপজেলার বৈলছড়ি ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের পূর্ব চেচুরিয়া এলাকার মৃত আলী হোসেনের ছেলে মো. সরোয়ার হোসেন (৪৮) ও একই এলাকার বাসিন্দা মো. জাফর (৫২)।

মামলার এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, গত ৯ এপ্রিল গোপন সংবাদের মাধ্যমে জানতে পারি, বাঁশখালী থানাধীন ৭নং সরল ইউনিয়নের জঙ্গল পাইরাং এলাকার ধর্মধমার মোড় পাহাড়ি এলাকার মো. সরোয়ার এর লিচু বাগানের ভেতরে ৬ এপ্রিল সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১১টা ৪৫ মিনিটের সময় একটি বন্য হাতিকে আসামীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করে। হাতিটির মাথায়, পিটে, দুই কানের পাশে এবং পায়ুপথসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুত্বর আঘাত করে হত্যা করেছে।

পরবর্তীতে ৯ এপ্রিল বাঁশখালী উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. সুপন নন্দী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বন বিভাগের সহযোগীতায় মৃত হাতিটির পোস্টমোর্টেম সম্পাদন করেন। তিনি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানান যে, উক্ত হাতিটি পুরুষ ও আনুমানিক বয়স ৬-৭ বছর, দাঁত-১.৫ ফুট, ওজন আনুমানিক ৮০০কেজি, পেনিস-১.৫ ফুট, পা-৪ ফুট, মাথা ও লেজ-১০ ফুট।

এজাহারে আরও বলা হয়, আসামীরা মৃত হাতিটির দুটি দাঁত ও পায়ের নখগুলো নিয়ে যায়। বাঁশখালী উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তার পরামর্শে বন বিভাগের লোকজন যথাযথ প্রক্রিয়ায় নিহত বন্য হাতিটিকে মাটি চাপা দেয়।

আসামীরা পরস্পর যোগসাজসে উক্ত বন্য হাতিটিকে গুরুত্বর আঘাত করে হত্যা করে তার দুটো দাঁত এবং পায়ের নখসমূহ অপসারণ করায় তাহাদের বিরুদ্ধে বন্যপ্রাণী (সংরক্ষন ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ এর ৩৬(১) (২) ধারা অনুযায়ী অপরাধ করেছে। আসামীরা হাতিটিকে হত্যা করে আনুমানিক ৪০ লাখ টাকা ক্ষতিসাধন করে।

গত বুধবার (৯ এপ্রিল) বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার জলদী রেঞ্জের পাইরাং বিটের আওতাধীন মনুমার ঝিরি এলাকায় গভীর বনের ভেতর হাতিটির মরদেহ পাওয়া যায়।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (দক্ষিণ) আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘ধারণা করছি, ফাঁদ পেতে হাতিটিকে দুষ্কৃতকারীরা হত্যা করেছে। হাতিটির পিঠে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো ছুরির আঘাত রয়েছে। ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে হাতিটিকে খুন করা হয়েছে। হত্যার পর হাতিটির দাঁত ও নখ কেটে নিয়ে গেছে।’

বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘হাতি হত্যার পর দাঁত ও নখ কেটে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় বিট কর্মকর্তা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। মামলার আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চালানো হচ্ছে।’


সম্পর্কিত খবর