
নিজস্ব প্রতিবেদক :
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, “চট্টগ্রাম নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় জাপান, যুক্তরাজ্য, কোরিয়াসহ বিভিন্ন দেশের ২০টি দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠান আগ্রহ প্রকাশ করেছে। কিন্তু এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বিপুল পরিমাণ জমি এবং বিনিয়োগের প্রয়োজন, যা চসিকের একার পক্ষে করা সম্ভব নয়। এজন্য চট্টগ্রামের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ প্রয়োজন।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) টাইগারপাসস্থ চসিক প্রধান কার্যালয়ে বাংলাদেশ এনভাইরনমেন্টাল এন্টারপ্রাইজ লিমিটেড (বিইইএল) নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে একটি বিশ্লেষণধর্মী প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করে। এতে সভাপতিত্ব করেন মেয়র শাহাদাত। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন প্রকৌশলী নাসির আহমেদ এবং ডা. এস এম সারোয়ার আলম।
মেয়র বলেন, “বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় একটি আধুনিক, পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো গড়ে তুলতে অন্তত ৫০ কোটি টাকা জমি কেনার পেছনেই প্রয়োজন। পুরো ব্যবস্থাপনার জন্য যা লাগবে তা আরও অনেক বেশি। এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক কোনো বিনিয়োগকারীর সহায়তা ছাড়া কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব নয়।”
প্রেজেন্টেশনে উঠে আসে, চট্টগ্রাম নগরীতে প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার টন বর্জ্য উৎপাদিত হলেও চসিক সংগ্রহ করতে পারে সর্বোচ্চ ২,০১০ টন, ফলে প্রায় ১ হাজার টন বর্জ্য পড়ে থাকে খাল-নালা ও উন্মুক্ত জায়গায়। এ অবস্থায় জলাবদ্ধতা, দুর্গন্ধ, কীটপতঙ্গের বংশবিস্তার এবং পরিবেশ দূষণ বেড়ে চলেছে।
বাংলাদেশ এনভাইরনমেন্টাল এন্টারপ্রাইজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান ডা. এ এইচ এম মোজাম্মেল বলেন, “নগরীর মোট বর্জ্যের মধ্যে ৬৩ শতাংশই খাবারজাত বর্জ্য। এর উচ্চ জৈব ও আর্দ্রতা উপাদানের কারণে চট্টগ্রামে প্রচলিত থার্মাল প্রসেস যেমন ইনসিনারেশন বা গ্যাসিফিকেশন কার্যকর নয়। এ অবস্থায় বায়োলজিক্যাল ট্রিটমেন্ট, বিশেষ করে ড্রাই অ্যানারোবিক ডাইজেশন পদ্ধতি সবচেয়ে উপযোগী।”
তিনি আরও বলেন, “বর্জ্য থেকে উৎপাদিত জৈবসার ও তরল সার পরিবেশবান্ধব কৃষির জন্য উপযোগী হলেও, শুধুমাত্র বাণিজ্যিক লাভের ভিত্তিতে বিনিয়োগকারীরা এগোতে চাচ্ছেন না। এক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় সহায়তা বা আন্তর্জাতিক ভর্তুকি জরুরি।”
প্রেজেন্টেশনে উল্লেখ করা হয় বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় স্যানিটারি ল্যান্ডফিল এখন আর কার্যকর নয়, কারণ চট্টগ্রামে জমির স্বল্পতা প্রকট। অ্যানারোবিক ডাইজেশন পদ্ধতি পরিবেশবান্ধব, শক্তি উৎপাদনে সক্ষম এবং দুর্গন্ধ ও রোগ-জীবাণু রোধে কার্যকর। প্রাথমিকভাবে একটি পাইলট প্রকল্প শুরু করে বর্জ্য থেকে জৈবসার ও বায়োগ্যাস উৎপাদনের পথ খোলা যেতে পারে।
