
চট্টগ্রামের ‘বিজ্ঞাপন বাজার’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিন্ন ও অসত্য সংবাদ প্রকাশের অভিযোগে চারটি আঞ্চলিক পত্রিকাসহ ঢাকা ও চট্টগ্রামের ৬টি মিডিয়া কর্তৃপক্ষকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। ‘বিজ্ঞাপন বাজার’ এর কর্ণধার মোহাম্মদ ওয়াজেদের ভাষ্য, বিজ্ঞাপন না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে তার প্রতিষ্ঠানের নামে ভুয়া, মিথ্যা ও বানোয়াট সংবাদ প্রকাশ করেছে এই প্রতিষ্ঠানগুলো। দ্রুত ভুয়া সংবাদটি প্রত্যাহার ও ক্ষমা প্রার্থনা করার জন্য সংশ্লিষ্ট পত্রিকা অফিস কর্তৃপক্ষের কাছে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন ‘বিজ্ঞাপন বাজার’ সংস্থার কর্ণধার মোহাম্মদ ওয়াজেদ।
মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) বিকালে আইনজীবী মুহাম্মদ নাঈম ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত এই আইনি নোটিসটি সংশ্লিষ্ট পত্রিকাগুলোর অফিসে পাঠানো হয়েছে।
নোটিসে মোহাম্মদ ওয়াজেদ আগামি সাত দিনের ভেতর উল্লেখিত পত্রিকাগুলোতে প্রকাশিত ভুয়া সংবাদটি প্রত্যাহার করে নেওয়ার কথা জানান। অন্যথায় সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ অনুযায়ী মামলা দায়ের করবেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
নোটিসে অভিযোগ করা হয়, সম্পূর্ণ অসৎ উদ্দেশ্যে নিউজ পেপার এমপ্লয়িজ ওয়েলফেয়ার সোসাইটির (নিউজ) সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলামের বরাত দিয়ে একটি চক্র ব্যবসায়িক ও সামাজিকভাবে হেয়-প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে, কল্পনা প্রসূত অসত্য তথ্য, বানোয়াট, মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও মানহানিকর সংবাদ পরিবেশন করা হয়েছে।
সংবাদটিতে অর্থঋন আদালত-১’-এর বিচারক যুগ্ম জেলা জজ হেলাল উদ্দীনের বরাত দিয়া যে বক্তব্য উপস্থাপন করা হয়েছে, তা মিথ্যা বানোয়াট ও আদালত অবমাননার।
সংবাদে আরও উল্লেখ করা হয়, ‘মোহাম্মদ ওয়াজেদ কাজীর দেউড়ির কর্ণফুলী টাওয়ারে বসে একটি ত্রাসের সাম্রাজ্য তৈরি করেছিল-যেখানে নকল বিজ্ঞাপন বিল তৈরি, নিলাম নোটিসের বিল বাড়িয়ে তৈরি, আদালতের নোটিসে জাল সই তৈরি ইত্যাদির মাধ্যমে প্রচুর টাকা তুলত।’
নোটিসে বলা হয়, ‘কোন প্রকার তথ্য-প্রমাণ ব্যতিরেকে এই ধরনের বক্তব্য প্রচার শুধু মানহানিকর নয়, সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ অনুযায়ীও অপরাধ।’
এছাড়া আদালত কর্মচারীদের সঙ্গে যোগসাজশ কোটি টাকার প্রতারণা, জাল ইনভয়েস, নকল সই, সিন্ডিকেট চালানো, ভয়ভীতি দেখানোসহ যে সব অভিযোগ আনা হয়েছে— তা ‘আইনগতভাবে শাস্তিযোগ্য অপপ্রচার’ বলে উল্লেখ করা হয় নোটিসে। সংবাদ প্রকাশের আগে মন্তব্য না নেওয়াকে ‘সাংবাদিকতার ন্যূনতম নীতিনৈতিকতার লঙ্ঘন’ বলেও দাবি করা হয়।
প্রতিবেদনের একটি অংশে ওয়াজেদকে কখনও আওয়ামী লীগ সমর্থক, কখনও জামায়াতপন্থী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে—যা নোটিসে ‘মিথ্যা রাজনৈতিক অলংকার’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আইনজীবীর সঙ্গে সখ্যতার মাধ্যমে আদালতের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণের অভিযোগকেও ‘হীন উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার’ বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে মোহাম্মদ ওয়াজেদ বলেন, ‘আমার প্রতিষ্ঠান ‘বিজ্ঞাপন বাজার’কে ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে একটি সংঘবদ্ধ চক্র অসত্য, বানোয়াট ও মানহানিকর সংবাদ পরিবেশন করেছে। কোন প্রকার তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই এমন অপপ্রচার শুধু অনৈতিক নয়, সাইবার সুরক্ষা আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। আমি এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং সংশ্লিষ্ট পত্রিকাগুলোকে দ্রুত ভুয়া সংবাদ প্রত্যাহার ও ক্ষমা প্রার্থনার আহ্বান জানাচ্ছি।’
