
কক্সবাজারের টেকনাফে পাহাড়ি এলাকায় কৃষিকাজ করার সময় অপহৃত এক উপজাতি ব্যক্তি অপহরণকারীদের আস্তানা থেকে রশি খুলে পালিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। রবিবার (২১ ডিসেম্বর) সকালে বাহারছড়া ইউনিয়নের উপকূলীয় চৌকিদার পাড়া পাহাড়ি এলাকা থেকে তিনি পালিয়ে আসেন।
পালিয়ে আসা ভিকটিমের নাম সংকুচিং চাকমা (৫৫)। তিনি বাহারছড়া ইউনিয়নের চৌকিদার পাড়া এলাকার বাসিন্দা। তার পালিয়ে আসার খবরে এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
সংকুচিং চাকমা জানান, অপহরণের পর তাকে পাহাড়ের একটি আস্তানায় আটকে রাখা হয়। সেখানে তার সঙ্গে আরও ছয়জন অপহৃত ব্যক্তি ছিলেন। তাদের শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হলেও তাকে রশি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছিল। সুযোগ বুঝে রশি খুলে তিনি পালিয়ে আসতে সক্ষম হন।
তিনি আরও বলেন, অপহরণকারীরা তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করেছে। তবে অন্ধকারের কারণে তিনি তাদের মুখ দেখতে পাননি। মারধরের সময় অপহরণকারীদের মধ্যে কয়েক জনকে বৌদ্ধ ভাষায় কথা বলতে শুনেছেন। তার ধারণা, তাদের মধ্যে কিছু রোহিঙ্গা এবং কিছু স্থানীয় মহেশখালীর বাসিন্দা হতে পারে। অপহরণকারীদের মূলহোতাদের নির্দেশের কারণে তাকে হত্যা করা হয়নি বলে তিনি ধারণা করছেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, এ ঘটনার পর পাহাড়ি এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ পাহাড়ি এলাকায় টহল জোরদার করেছে।
এ বিষয়ে টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম জানান, শনিবার দুপুরে পাহাড়ে কাজ করতে গিয়ে এক উপজাতি ব্যক্তি অপহরণের শিকার হন। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পাঠানো হয় এবং পাহাড়ি এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়।
তিনি বলেন, রবিবার সকালে অপহৃত ব্যক্তি নিজ বাড়িতে ফিরে আসেন। অপহরণ চক্রের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করার কাজ চলছে এবং অপহরণকারীদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত শনিবার (১৯ ডিসেম্বর) দুপুরে বাহারছড়া উপকূলীয় পাহাড়ি এলাকায় কৃষিকাজ করতে গেলে অপহরণকারীরা গুলি বর্ষণ করে সংকুচিং চাকমাকে অপহরণ করে। এ সময় বাহারছড়া চৌকিদার পাড়া এলাকার বাসিন্দা এবাদুল্লাহ আহত অবস্থায় ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে আসেন।
