বৃহস্পতিবার , ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

চট্টগ্রাম

‘হাদি হত্যায় জামায়াতের তিন শ’ প্রার্থীই উদ্বিগ্ন’

জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরদিন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান বিন হাদিকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় তিন শ’ আসনের প্রার্থীরাও জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। গতকাল রাজধানীর মগবাজার আল-ফালাহ্‌ মিলনায়তনে এক দোয়া মাহফিলে গোলাম পরওয়ার এ মন্তব্য করেন। ওসমান হাদির জন্য এই দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরদিনই একজন প্রার্থীকে গুলিবিদ্ধ করার ঘটনা একটা প্যাকেজ প্রোগ্রাম। আরও সিরিয়াল হয়তো করা হয়েছে। ওসমান হাদির পর জুলাই যোদ্ধাদের কে কে টার্গেটে আছেন, তা নিয়ে জাতি উদ্বিগ্ন। তফসিলের পর একজন প্রার্থীর ওপর গুলি করা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা হতে পারে না। ল’ এনফোর্সিং এজেন্সি এখন প্রধান নির্বাচন কমিশনারের হাতে। প্রধান উপদেষ্টা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার দুজনেরই এখানে দায় আছে। এ দায় তারা এড়াতে পারবেন না। গোলাম পরওয়ার বলেন, ইনক্লুসিভ ইলেকশন, রিফাইন্ড আওয়ামী লীগের কথা বলে জাতির মধ্যে আবার ফ্যাসিস্টদের প্রবেশ করিয়ে এই জাতিসত্তাকে ধ্বংস করার সুযোগ দিতে চাইলে জনগণ তা মেনে নেবে না।

ওসমান হাদির জানাজায় তার খুনিদের গ্রেপ্তার ও বিচারের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট বক্তব্য আসেনি বলে মন্তব্য করেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল। ওসমান হাদিকে গুলির পর গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর প্রধানদের কী ভূমিকা ছিল, সরকারপ্রধানের সে খোঁজ নেয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি। সরকারকে ওসমান হাদির খুনিদের খুঁজে বের করতে হবে বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি অসম্ভব নয়। খুনি বিদেশে চলে গেলে বিদেশি মিশন, অ্যাম্বাসি আছে, ভারতের সঙ্গে বন্দিবিনিময় চুক্তিসহ অনেক কিছুই আছে। সবক’টি কাজে লাগাতে হবে। জাতিসংঘ ওসমান হাদির খুনের ঘটনা তদন্তে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। প্রয়োজনে তাদের লজিস্টিক সাপোর্ট নিতে হবে।

তিনি বলেন, শহীদ ওসমান হাদির পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন, সৎ জীবন দেশবাসীকে মুগ্ধ করেছে। তার শাহাদাতের পরে মানুষের মধ্যে যে জোয়ার, জজবা ও আকাঙ্ক্ষা সৃষ্টি হয়েছে তা এক বিরল ঘটনা। তার নামাজে জানাজায় সরকার প্রধান, উপদেষ্টাবৃন্দ এবং দেশের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ সর্বস্তরের লাখ লাখ মানুষ যেভাবে অংশগ্রহণ করেছে, তা দেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন। আল্লাহ তার আকাঙ্ক্ষা পূরণ করে তাকে দুনিয়ায় অতি উঁচু মর্যাদা দিয়েছেন এবং আমরা আশাকরি আখিরাতেও আল্লাহ তাকে অতি উঁচু মর্যাদা দান করবেন।

শহীদ ওসমান হাদির বড় ভাই ওমর বিন হাদি বলেন, আমার ছোট ভাই শরীফ ওসমান বিন হাদি সবসময় বলতো ‘আমাকে আল্লাহ রক্ষা করবেন। আমার নিরাপত্তার দায়িত্ব আল্লাহ’র। আল্লাহ আমাদের পরিবার-পরিজন ও দেশের ১৮ কোটি মানুষকে নিরাপত্তা দিবেন। আমরা দেশকে আধিপত্যবাদীদের কবল থেকে মুক্ত করার জন্য রাজপথে নেমেছিলাম। আমরা শোষণ-জুলুমের অবসান ঘটিয়ে একটি ন্যায়ভিত্তিক ইনসাফপূর্ণ দেশ গড়ার জন্য রাজপথে নেমেছি।

ওমর বিন হাদি আরও বলেন, আমার ভাই ওসমান হাদি শাহাদাতবরণ করেছে। ওসমান যে স্বপ্ন দেখতো সেই স্বপ্ন পূরণ করার দায়িত্ব আমাদের সকলের। তার অসমাপ্ত বিপ্লব সমাপ্ত করতে এগিয়ে আসার জন্য আমি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। আমাদের পরিবার-পরিজন সকলের কল্যাণের জন্য দেশবাসীর দোয়া কামনা করছি।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিমের সঞ্চালনায় মাহফিলে বক্তব্য রাখেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মা’ছুম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমীর নূরুল ইসলাম বুলবুল, উত্তরের আমীর মো. সেলিম উদ্দিন, চাকসু’র সাবেক ভিপি এডভোকেট জসিম উদ্দিন সরকার এবং শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদির বড় ভাই ওমর বিন হাদী।


সম্পর্কিত খবর