অপরাধ

দুর্নীতিতে অভিযুক্ত স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে পদায়নে পুরুষ্কার!

ডা. আবদুল্লাহ আল ইফরান, ছিলেন চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার স্বাস্থ্য কর্মকর্তা। অভিযোগ রয়েছে, এ উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে দায়িত্বে থাকাকালিন ঠিকাদারদের সঙ্গে যোগসাজশে হাসপাতালের জন্য বরাদ্দকৃত যন্ত্রপাতি, আসবাবপত্র ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী যথাযথভাবে সরবরাহ না করে সরকারের বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করেছেন তিনি। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর তাকে স্বাস্থ্য বিভাগ (প্রশাসন) এই বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। অপরদিকে বার্ষিক অডিট কার্যক্রমেও তাঁর এই আর্থিক অনিয়ম ও তছরুপের সত্যতা উঠে আসে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জনের দপ্তর সূত্র জানায়, এসবসব অপরাধের পরও আওয়ামী ফ্যাসিবাদ সরকারের প্রভাবখাটিয়ে অপকর্মচালিয়ে যান তিনি। তবে ২০২৪ এর ৫ আগস্ট ফ্যাসিবাদ আওয়ামী হাসিনা সরকারের পতনের পর তাকে চন্দনাইশ থেকে দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে শাস্তিমূলক বদলী করা হয়।

এবার সেই অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে এবার তদবির ও মোটা অংকের আর্থিক লেনেদেনে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্ত্রে পদায়ন করা হয়েছেন। গত সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা, জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ রুমির স্বাক্ষরিত এক পত্রে ডা. আবদুল্লাহ আল ইফরানকে উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্ত্রে পদায়নের এই আদেশ করেন। আর এই খবর জানাজানি হওয়ার পরই লোহাগাড়া উপজেলার স্থানীয় জনগণের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ, ক্ষোভ ও শঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ মানুষের আশঙ্কা, পূর্বের মতো এখানেও স্বাস্থ্য খাতে অনিয়ম ও দুর্নীতির আতুরঘরে পরিনত হবে। ব্যাহত হবে যা চিকিৎসাসেবা, স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতি আস্থাহারাবে স্থানীয় জনসাধারণ।

ডা. আবদুল্লাহ আল ইরফানের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে জানতে চাইলে সরাসরি কোনো কথা বলতে রাজি হননি চন্দনাইশ উপজেলার বর্তমান উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. রশ্মি চাকমা। তবে তিনি বলেন, বিষয়গুলো যেহেতু তদন্তনাধিন, সে বিসয়ে আমি কথা বলতে চাচ্ছি না।

চন্দনাইশ উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্র সূত্র জানায়, স্বাস্থ্য কেন্দ্রের তৎকালিন স্টোর কিপার ওবায়দুলও অনিয়মের বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। যা অডিট ও আভ্যন্তরিণ তদন্তে উঠে এসেছে। তবে এসব বিষয়ে কিউই সরাসরি মুখখুলতে সাহস পাচ্ছেন না।

অভিযোগ রয়েছে, এক সময়কার ছাত্রলীগের ক্যাডার ডা. আবদুল্লাহ আল ইফরান বিগত ২০২৪ এর জুলাই আন্দোলন চলাকালিন সময়ে সাধারণ ছাত্রজনতাকে চিকিৎসা সেবা প্রদানে বাধাপ্রদান করে। এমনকি আন্দোলনে আহত কোনো রোগি হাসপাদালে গেলে পুলিশ ও ছাত্ররীগ-যুবরীগকে ডেকে হাতে তুলে দিতেন।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে ডা. আবদুল্লাহ আল ইফরানের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হয়। তবে বারবার চেষ্টা করেও তার কোনো বক্তব্য মিলেনি।


সম্পর্কিত খবর