অপরাধ

ভয়ে কাঁপছে আলিনগরবাসি; হয়রানির অভিযোগে ক্ষোভ

সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের আড়ালে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ার দাবি বাসিন্দাদের

চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় র‌্যাব কর্মকর্তাকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনার পর থেকে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তবে সন্ত্রাস দমনের এই অভিযানের মধ্যে স্থানীয় নিরীহ বাসিন্দারা নানা ধরনের হয়রানি ও দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান প্রয়োজন হলেও সাধারণ মানুষের সঙ্গে অশোভন আচরণ ও ব্যক্তিগত সম্পদ ব্যবহারের উঠেছে। গত ১৯ জানুয়ারি জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় সন্ত্রাসীদের হামলায় র‌্যাব-৭ এর একজন নায়েক সুবেদার নিহত হন। একই ঘটনায় আহত হন আরও তিন সদস্য। এ ঘটনার পর থেকেই এলাকাটিকে ঘিরে ব্যাপক নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

এর ধারাবাহিকতায় গত ৯ মার্চ জঙ্গল সলিমপুরে পরিচালিত হয় বড় ধরনের সাঁড়াশি অভিযান। অভিযানে বিপুল সংখ্যক র‌্যাব, পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনীর সদস্য অংশ নেন। অভিযানের সময় দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয় এবং কয়েকজনকে আটক করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এরপর থেকেই পুরো এলাকায় বাড়ানো হয় নজরদারি ও টহল কার্যক্রম।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযানের পর থেকে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। বিভিন্ন সময়ে তল্লাশি, জিজ্ঞাসাবাদ ও নিরাপত্তা কার্যক্রমের নামে নিরীহ বাসিন্দাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের ঘটনাও ঘটছে বলে দাবি তাদের।

স্থানীয় বাসিন্দা নুরুল আলম অভিযোগ করেন, বর্তমানে সলিমপুর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দুটি অস্থায়ী ক্যাম্প রয়েছে। এসব ক্যাম্পের একটির সংস্কার কাজে স্থানীয় বাসিন্দা মো. ইলিয়াছের কেনা প্রায় ১২ হাজার ইট ও ৪০০ ফুট কংকর ব্যবহার করা হয়েছে। অথচ সরকারি কাজের জন্য সরকারি বরাদ্দ ব্যবহার না করে স্থানীয়দের মালামাল নেওয়ায় ক্ষোভ তৈরি হয়েছে এলাকাবাসীর মধ্যে।

আরেক বাসিন্দা নজরুল ইসলাম বলেন, “জঙ্গল সলিমপুরের ছিন্নমূল এলাকায় প্রায় ৬০ থেকে ৭০ হাজার মানুষ বসবাস করে। এছাড়া আলীনগর এলাকায় আরও ১৫ থেকে ২০ হাজার মানুষের বসতি রয়েছে। এখানকার মানুষ অত্যন্ত সহজ-সরল। বাইরের কিছু দুষ্কৃতকারী এসে এলাকায় অপরাধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে সাধারণ মানুষকে বিপাকে ফেলছে। আমরা চাই সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক। তবে নিরীহ মানুষ যেন কোনো ধরনের অন্যায়ের শিকার না হয়, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।”

স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিন ধরে জঙ্গল সলিমপুরে অবৈধ অস্ত্রধারী ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর তৎপরতা থাকলেও সেখানে বসবাসকারী অধিকাংশ মানুষ দিনমজুর ও নিম্নআয়ের শ্রমজীবী। তাই সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে সাধারণ মানুষ যাতে হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে প্রশাসনের আরও সংবেদনশীল ভূমিকা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ পুলিশ এর সীতাকুণ্ড থানা এর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিনুল ইসলাম বলেন, “সলিমপুরে বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। পুরো এলাকা এখন প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে। বর্তমানে দুটি অস্থায়ী ক্যাম্প রয়েছে। সরকার চাইলে ভবিষ্যতে স্থায়ী ক্যাম্প হবে এবং প্রয়োজনীয় বরাদ্দ দেওয়া হবে। বিষয়টি সম্পূর্ণ সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল।”##


সম্পর্কিত খবর